ডেস্করিপোর্ট ।। বরিশালে দেড় মাস বয়সী এক শিশুকন্যাকে চুরি করে বিক্রির অভিযোগে করা মামলায় স্কুল শিক্ষিকাসহ তিন নারীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক এ আদেশ দেন।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে নগরীর বিভিন্ন স্থানে এসআই রুহুল আমিনের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে তাঁদের গ্রেপ্তার করে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নগরীর সাগরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মৌরি আক্তার, রূপাতলী মওলানা ভাসানী সড়কের বাসিন্দা নাসিমা বেগম এবং তাঁর বড় বোন ফাহমিদা।
নিখোঁজ শিশুটির নাম সাদিয়া। সে নগরীর রূপাতলী এলাকার সোহেল ও বৃষ্টি বেগম দম্পতির একমাত্র সন্তান।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২০ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রূপাতলী মওলানা ভাসানী সড়কের একটি ভাড়া বাসা থেকে শিশুটি নিখোঁজ হয়। ওই সময় শিশুটি ঘুমিয়ে ছিল। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবেশী নাসিমা বেগম শিশুটির মা বৃষ্টি বেগমকে একটি কাগজ পোড়ানোর কথা বলে পাশের বাড়ির পেছনে পাঠান। এ সময় শিশুটিকে দেখাশোনার দায়িত্ব নেন তিনি। পরে মা ফিরে এসে বিছানায় সন্তানকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
এ ঘটনায় ২২ অক্টোবর কোতোয়ালি মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন শিশুটির মা। পরে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। বৃষ্টি বেগমের সন্দেহের ভিত্তিতে গত রোববার রাতে নাসিমাকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার জানান, নাসিমা বেগম ৩৫ হাজার টাকার বিনিময়ে শিশুটিকে স্কুলশিক্ষিকা মৌরি আক্তারের কাছে বিক্রি করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। পরে মৌরি শিশুটিকে তাঁর সন্তানহারা বড় বোন ফাহমিদার কাছে পাঠিয়ে দেন।
পুলিশের তৎপরতায় ফাহমিদা শিশুটিকে নিয়ে বরিশালের কোতোয়ালি মডেল থানায় হাজির হন। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে শিশুটিকে তার মা বৃষ্টি বেগমের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, মানবপাচার আইনে করা মামলায় তিন নারীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।